বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে - সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে - এই প্রশ্নটা প্রায় প্রতিটা নতুন দম্পতির মাথায় ঘুরপাক খায়, বিশেষ করে যখন বিদেশ ভ্রমণ বা কাজের প্রয়োজনে পাসপোর্ট বানানোর চিন্তা মাথায় আসে। বিয়ের আগে পাসপোর্ট বানানো আর বিয়ের পরে পাসপোর্ট বানানো - দুটোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। বিশেষ করে বিবাহিত মহিলাদের জন্য বিষয়টা একটু ভিন্ন হয়ে যায়, কারণ বিয়ের পরে নামের সাথে স্বামীর পদবি যোগ হতে পারে বা জাতীয় পরিচয়পত্রে নতুন তথ্য আপডেট হয়।

বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
অনেকেই মনে করেন পাসপোর্ট বানানো খুবই জটিল একটা প্রক্রিয়া - ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো, বারবার অফিসে যাওয়া, আর কাগজপত্রের ঝামেলা। কিন্তু সত্যি বলতে, যদি আপনি আগে থেকে সঠিক কাগজপত্র গুছিয়ে নেন এবং প্রক্রিয়াটা সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন, তাহলে পাসপোর্ট বানানো মোটেও কঠিন না। এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে বিস্তারিতভাবে জানব বিবাহিত ব্যক্তি - চাই সে পুরুষ হোক বা মহিলা - কীভাবে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, কোন কোন কাগজ লাগবে, কত টাকা খরচ হবে, এবং কোথায় কোথায় যেতে হবে।

পেজ সূচিপত্রঃ বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে - একনজরে

বাংলাদেশে বর্তমানে পাসপোর্ট করার পুরো প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। এখন চাইলে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করা যায়, আবার প্রয়োজন হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে গিয়েও সরাসরি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেন সম্পূর্ণ এবং সঠিক থাকে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একটি ছোট ভুল বা কোনো একটি ডকুমেন্টের ঘাটতির কারণে পুরো আবেদন প্রক্রিয়া আটকে যায় বা অতিরিক্ত সময় লেগে যায়।

যখন একজন অবিবাহিত ব্যক্তি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন, তখন সাধারণত তার ব্যক্তিগত পরিচয় সম্পর্কিত কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্রই যথেষ্ট হয়। কিন্তু একজন বিবাহিত ব্যক্তি - বিশেষ করে যাদের বৈবাহিক তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য নথির সাথে সম্পর্কিত - তাদের ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত ডকুমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে। কারণ অনেক সময় বিয়ের পর নাম, ঠিকানা অথবা পারিবারিক তথ্যের পরিবর্তন আসে, যা সরকারি নথির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণভাবে বাংলাদেশে বিবাহিত পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়, সেগুলো হলো:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) - এটি অবশ্যই আপডেটেড হতে হবে এবং এখানে থাকা নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানার তথ্য আবেদন ফর্মের সাথে মিল থাকতে হবে। যদি বিয়ের পর কোনো তথ্য পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে আগে NID সংশোধন করে নেওয়া ভালো।
  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ - বর্তমানে ডিজিটাল বা অনলাইন ভেরিফাই করা যায় এমন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। পুরনো হাতে লেখা জন্ম সনদ অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
  • বিবাহের কাবিননামা বা নিকাহনামা - এটি বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট। বিশেষ করে যদি স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য পাসপোর্টে যুক্ত করতে হয় অথবা বিয়ের পর কোনো তথ্য পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে কাবিননামা জমা দিতে হতে পারে।
  • নাগরিকত্ব সনদ - বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে সংগ্রহ করা নাগরিকত্ব সনদ প্রয়োজন হতে পারে। অনেক পাসপোর্ট অফিস আবেদনকারীর ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য এটি চেয়ে থাকে।
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি - যদিও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ছবিই ব্যবহার করা হয়, তবুও কিছু পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সাইজের (সাধারণত সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড) ছবি প্রয়োজন হতে পারে। তাই আগে থেকে ছবি প্রস্তুত রাখা ভালো।
  • অনলাইন আবেদন ফর্ম - বর্তমানে Bangladesh e-Passport Portal এর মাধ্যমে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হয়। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য, পেশা, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা - সব তথ্য খুব সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে।
  • পাসপোর্ট ফি জমার রসিদ - আবেদন সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। এই পেমেন্ট ব্যাংক অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও করা যায়। জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত রসিদ সংরক্ষণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পরবর্তী ধাপে প্রয়োজন হবে।

একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি - উপরের কাগজপত্রগুলো সাধারণভাবে প্রায় সবার ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয়। তবে বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যদি বিয়ের পর নাম পরিবর্তন করা হয়ে থাকে বা স্বামীর তথ্য নতুনভাবে যুক্ত করা হয়ে থাকে, তাহলে অতিরিক্ত কিছু ডকুমেন্ট লাগতে পারে। আবার সরকারি চাকরিজীবী, বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তি বা পুরনো পাসপোর্ট নবায়ন করতে চাইলে আলাদা কিছু কাগজও প্রয়োজন হতে পারে।

এই কারণে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার আগে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একবার ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুনঃ ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম বাংলাদেশ

বিবাহিত পুরুষের পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশে একজন বিবাহিত পুরুষের পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া সাধারণত খুব জটিল নয়। তবে অনেকেই মনে করেন, বিয়ে হয়ে গেলে পুরুষদের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো তথ্য বা ডকুমেন্টের দরকার হয় না। বাস্তবে বিষয়টা পুরোপুরি এমন নয়। যদিও অবিবাহিত এবং বিবাহিত পুরুষের পাসপোর্ট আবেদনের মূল প্রক্রিয়া অনেকটাই একই থাকে, তবুও কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে যদি বিয়ের পর ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে থাকে, পারিবারিক তথ্য পরিবর্তন হয়ে থাকে অথবা নতুন তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে সমন্বয় করার দরকার হয়, তাহলে আবেদন করার আগে কিছু বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID-এর তথ্য। বর্তমানে বাংলাদেশে পাসপোর্ট আবেদন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রে যে তথ্য দেওয়া থাকে, আবেদন প্রক্রিয়ায় ঠিক সেই তথ্যই ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ আপনার নাম, জন্মতারিখ, স্থায়ী ঠিকানা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য যদি NID-এর সাথে না মেলে, তাহলে আবেদন আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ধরুন একজন ব্যক্তি বিয়ের আগে পরিবারের সাথে রাজশাহীতে থাকতেন এবং তাঁর NID-তে সেই ঠিকানাই দেওয়া আছে। কিন্তু বিয়ের পর চাকরির কারণে তিনি ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। এখন যদি তিনি নতুন ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্টের আবেদন করেন, অথচ NID-তে পুরনো ঠিকানা থেকেই যায়, তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশন কিংবা তথ্য যাচাইয়ের সময় ঝামেলার সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য অনেক ক্ষেত্রেই আবেদন করার আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য আপডেট করে নেওয়া নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

সাধারণভাবে একজন বিবাহিত পুরুষের পাসপোর্ট আবেদন করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়, সেগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

১। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) - মূলকপি ও ফটোকপি

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। NID-তে থাকা নাম, জন্মতারিখ এবং ঠিকানার তথ্য অবশ্যই সঠিক ও আপডেটেড থাকতে হবে। আবেদনের সময় মূল কপি যাচাই করা হতে পারে, তাই ফটোকপির পাশাপাশি মূল কপিও সাথে রাখা উচিত।

২। অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ

বর্তমানে ডিজিটাল বা অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্ম নিবন্ধন সনদ অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। পুরনো হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন বা অসম্পূর্ণ তথ্যযুক্ত সনদ থাকলে আগে সেটি সংশোধন করে নেওয়া ভালো।

৩। বিবাহের কাবিননামা বা নিকাহনামা

সব ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক না হলেও, যদি আপনি ভবিষ্যতে স্ত্রী সম্পর্কিত তথ্য যুক্ত করতে চান বা বৈবাহিক তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়, তাহলে কাবিননামার সত্যায়িত কপি প্রয়োজন হতে পারে। তাই আগে থেকেই একটি পরিষ্কার কপি প্রস্তুত রাখা ভালো।

৪। বর্তমান ঠিকানার নাগরিকত্ব সনদ

অনেক পাসপোর্ট অফিস আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা যাচাই করার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে নেওয়া নাগরিকত্ব সনদ দেখতে চাইতে পারে। বিশেষ করে যদি স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা আলাদা হয়, তাহলে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।

৫। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে NOC বা অনুমতিপত্র

যদি আপনি কোনো সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকেন, তাহলে অনেক সময় বিভাগীয় অনুমতিপত্র বা অফিস থেকে ইস্যু করা NOC (No Objection Certificate) লাগতে পারে। বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও কিছু প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ডকুমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। তাই আগে প্রতিষ্ঠান থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

৬। আগের পাসপোর্টের কপি (যদি নবায়ন করেন)

যদি এটি আপনার প্রথম পাসপোর্ট না হয় এবং পুরনো পাসপোর্ট নবায়ন করতে চান, তাহলে পূর্বের পাসপোর্টের মূলকপি ও ফটোকপি জমা দিতে হবে। বিশেষ করে পুরনো পাসপোর্টে কোনো ভিসা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলে সেটিও যাচাই করা হয়।

৭। পাসপোর্ট ফি জমার রসিদ

পাসপোর্ট আবেদন সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। এই পেমেন্ট ব্যাংক বা অনলাইন মাধ্যমেও করা যায়। আবেদন প্রক্রিয়ার সময় এই রসিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, তাই এটি সংরক্ষণ করা জরুরি।

একটি বিষয় মনে রাখবেন - অনেক পুরুষ মনে করেন বিয়ের পর তাঁদের জন্য অতিরিক্ত কোনো ডকুমেন্ট লাগে না। কিন্তু বাস্তবে যদি ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা বা পারিবারিক তথ্যের মধ্যে কোনো পরিবর্তন ঘটে থাকে, তাহলে ছোট একটি অসামঞ্জস্যও আবেদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সব কাগজপত্র একবার ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

বিবাহিত মহিলাদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

বাংলাদেশে বিবাহিত মহিলাদের পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ আমাদের দেশে বিয়ের পর অনেক নারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পরিবর্তন ঘটে, যা সরাসরি সরকারি কাগজপত্রের সাথে সম্পর্কিত। অনেকেই বিয়ের পর নিজের নামের সাথে স্বামীর পদবি যুক্ত করেন, আবার অনেকের স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানারও পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনগুলো যদি জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন অথবা অন্যান্য সরকারি নথিতে আপডেট না করা থাকে, তাহলে পাসপোর্ট আবেদন করার সময় বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এজন্য বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে নিজের সব তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই মনে করেন, বিয়ের পরে নাম পরিবর্তন করলেই কেবল অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগে। বাস্তবে বিষয়টা একটু ভিন্ন। আপনি নাম পরিবর্তন করুন বা না করুন - উভয় ক্ষেত্রেই বৈবাহিক তথ্যের প্রমাণ হিসেবে কিছু নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখা ভালো। কারণ পাসপোর্ট অফিস প্রয়োজনে আবেদনকারীর পারিবারিক তথ্য বা পরিচয় যাচাই করতে অতিরিক্ত কাগজ দেখতে চাইতে পারে।

ধরুন একজন নারী বিয়ের আগে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে “সাবরিনা আক্তার” নামে ছিলেন। বিয়ের পর তিনি নিজের নামের সাথে স্বামীর পদবি যুক্ত করে “সাবরিনা রহমান” নামে NID আপডেট করেছেন। এখন যখন তিনি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, তখন নতুন নাম অনুযায়ী আপডেট করা NID, বিবাহের কাবিননামা এবং অন্যান্য সমর্থনকারী কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে। অন্যদিকে যদি কেউ বিয়ের পর নাম পরিবর্তন না করেন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিবর্তনের দরকার হয় না, তবে কাবিননামা বা বৈবাহিক তথ্যের প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখা নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

সাধারণভাবে একজন বিবাহিত মহিলার পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১। আপডেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টগুলোর একটি। যদি বিয়ের পর নাম, ঠিকানা অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে আবেদন করার আগে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন বা আপডেট করে নেওয়া উচিত। কারণ পাসপোর্ট আবেদনের সময় NID-এর তথ্যের সাথেই সব তথ্য যাচাই করা হয়।

২। অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ

বর্তমানে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ অধিকাংশ সরকারি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। তাই আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যেন একে অপরের সাথে পুরোপুরি মিল থাকে, সেটি আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

৩। বিবাহের কাবিননামা বা নিকাহনামার সত্যায়িত কপি

বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট। বিশেষ করে বিয়ের পর নাম পরিবর্তন করা হলে অথবা বৈবাহিক তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে কাবিননামা জমা দিতে হতে পারে। তাই কাজি অফিস থেকে একটি পরিষ্কার ও সত্যায়িত কপি আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখা ভালো।

৪। স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি

অনেক ক্ষেত্রেই স্বামীর পরিচয় যাচাই বা পারিবারিক তথ্য নিশ্চিত করার জন্য স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি চাওয়া হতে পারে। যদিও সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবুও আবেদন করার সময় এটি সাথে রাখলে অতিরিক্ত ঝামেলা এড়ানো যায়।

৫। বর্তমান ঠিকানার নাগরিকত্ব সনদ

যদি বিয়ের পরে নতুন ঠিকানায় বসবাস শুরু করেন, তাহলে বর্তমান এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ করা প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন বা ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য এটি দেখা হয়।

৬। সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি

বর্তমানে বায়োমেট্রিক ছবি ব্যবহার করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পাসপোর্ট সাইজ ছবি প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্ধারিত সাইজ অনুযায়ী কিছু ছবি প্রস্তুত রাখা ভালো।

৭। পাসপোর্ট ফি জমার রসিদ

অনলাইনে আবেদন করার পর নির্ধারিত ফি ব্যাংক অথবা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। ফি জমা দেওয়ার পর যে রসিদ পাওয়া যায়, সেটি আবেদন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এটি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।

৮। পূর্বের পাসপোর্টের মূলকপি ও ফটোকপি (যদি থাকে)

যদি আগে থেকেই আপনার কোনো পাসপোর্ট থাকে এবং সেটি নবায়ন করতে চান, তাহলে পুরনো পাসপোর্টের কপি আবেদন করার সময় জমা দিতে হবে। বিশেষ করে পুরনো পাসপোর্টে থাকা তথ্য নতুন আবেদনের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - অনেক সময় স্বামী বিদেশে অবস্থান করলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা কিছুটা কঠিন হয়ে যেতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিকল্প কোনো সত্যায়িত নথি ব্যবহার করা যায় কি না, সেটি আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো। কারণ নিয়ম সময়ে সময়ে পরিবর্তন হতে পারে এবং ভিন্ন পরিস্থিতিতে আলাদা কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।

সবশেষে একটি বিষয় মনে রাখবেন - বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট আবেদন করার সময় ছোটখাটো তথ্যগত অসামঞ্জস্য, যেমন নামের বানান, জন্মতারিখ বা ঠিকানার অমিল, অনেক সময় পুরো আবেদন প্রক্রিয়াকে দেরি করিয়ে দিতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সব সরকারি কাগজপত্র একবার ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ এবং বুদ্ধিমানের কাজ।

কাবিননামা ও বিয়ের সনদ - কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় অনেকেই মনে করেন যে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকলেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে যারা প্রথমবার পাসপোর্ট করতে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা থাকে যে বিয়ের সাথে সম্পর্কিত কোনো আলাদা কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবে বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। কারণ একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থা, পারিবারিক পরিচয় এবং সরকারি নথিতে থাকা তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার জন্য অনেক সময় কাবিননামা বা বিয়ের সনদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

সহজভাবে বললে, কাবিননামা হলো আপনার বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের সরকারি প্রমাণ। যদি আপনি বিবাহিত হন এবং পাসপোর্ট আবেদনের সময় আপনার স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য কোনোভাবে উল্লেখ করতে চান, অথবা বিয়ের পরে নাম, ঠিকানা বা পারিবারিক পরিচয়ের কোনো পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে এই ডকুমেন্টটি প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারী সরাসরি বুঝতে পারেন না যে একটি ছোট তথ্য যাচাইয়ের জন্যও পাসপোর্ট অফিস অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চাইতে পারে, আর তখন কাবিননামাই সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আমাদের দেশে অনেক নারী বিয়ের পর নিজের নামের সাথে স্বামীর পদবি যোগ করেন অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করেন। যখন নতুন তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্টের আবেদন করা হয়, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সেই পরিবর্তনের বৈধতা যাচাই করার জন্য বিয়ের কাবিননামা দেখতে চায়। একইভাবে কিছু ক্ষেত্রে বিবাহিত পুরুষদেরও বৈবাহিক তথ্য প্রমাণের জন্য এই ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা ভিসা আবেদন। অনেক দেশ, বিশেষ করে family visa, spouse visa অথবা dependent visa-এর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে বিয়ের সনদ বা কাবিননামা দেখতে চায়। অর্থাৎ পাসপোর্ট আবেদন করার সময় হয়তো সবসময় এই কাগজ সরাসরি বাধ্যতামূলক না-ও হতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুরু থেকেই এই ডকুমেন্টটি সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

কাবিননামা ও বিয়ের সনদ - কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকে জানতে চান - কাবিননামা কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন? সাধারণত আপনার বিয়ে যেই কাজি অফিস বা রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পন্ন হয়েছে, সেখান থেকেই কাবিননামার মূল কপি অথবা সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করা যায়। অনেক সময় বিয়ের সময় দেওয়া মূল কপি হারিয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাজি অফিসে যোগাযোগ করে রেকর্ড থেকে পুনরায় নকল কপি তোলা সম্ভব, তবে এতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এজন্য শুরু থেকেই কাবিননামার একাধিক কপি সংরক্ষণ করে রাখা ভালো অভ্যাস।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাগজটির বৈধতা এবং গ্রহণযোগ্যতা। কাবিননামায় অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কাজির অফিসিয়াল সিল, স্বাক্ষর এবং নিবন্ধনের সঠিক তথ্য থাকতে হবে। যদি এটি অনেক পুরনো হয় অথবা কপির অবস্থা অস্পষ্ট হয়, তাহলে প্রয়োজনে নোটারি পাবলিক বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত করিয়ে নেওয়া ভালো। কারণ অনেক সময় অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

যাঁরা বিদেশে বিবাহ সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের জন্য বিষয়টি আরও একটু আলাদা হতে পারে। ধরুন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে অবস্থান করার সময় সেখানে বিয়ে করেছেন এবং সেই দেশের সরকারি নথি অনুযায়ী marriage certificate পেয়েছেন। এই ধরনের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিদেশে ইস্যু করা বিয়ের সনদ বাংলাদেশে সরাসরি গ্রহণযোগ্য হয় না। প্রয়োজনে সেটি সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অ্যাটেস্টেশন করাতে হতে পারে।

সবশেষে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি - পাসপোর্ট আবেদন করার সময় অনেকেই কাবিননামাকে খুব সাধারণ একটি কাগজ মনে করে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বাস্তবে ছোট একটি তথ্য যাচাই, নাম পরিবর্তন, পারিবারিক পরিচয় নিশ্চিত করা কিংবা ভবিষ্যতে বিদেশ ভ্রমণের প্রক্রিয়া - সব ক্ষেত্রেই এই একটি ডকুমেন্ট অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আপনি যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন এবং নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে চান, তাহলে কাবিননামা বা বিয়ের সনদ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে

পাসপোর্টের ধরন এবং ফি - কোনটা বেছে নেবেন?

বাংলাদেশে এখন দুই ধরনের পাসপোর্ট পাওয়া যায় - MRP (Machine Readable Passport) এবং e-Passport (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট)। বর্তমানে সরকার e-Passport-কে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য। যাঁরা নতুন পাসপোর্ট বানাচ্ছেন তাঁদের e-Passport-এর জন্যই আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ এবং ভবিষ্যতে বিদেশ ভ্রমণ বা বিভিন্ন ভিসা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ব্যবহার করা যায়।

e-Passport মূলত এমন একটি উন্নত পাসপোর্ট যেখানে একটি ইলেকট্রনিক চিপ সংযুক্ত থাকে। এই চিপের মধ্যে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, আঙুলের ছাপসহ গুরুত্বপূর্ণ বায়োমেট্রিক ডেটা সংরক্ষিত থাকে। ফলে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়, নিরাপত্তা অনেক বেশি শক্তিশালী হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে এটি বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ার কারণে ভ্রমণকারীদের জন্য এটি সবচেয়ে ভালো অপশন হিসেবে ধরা হয়।

নিচের টেবিলে পাসপোর্টের ধরন ও ফি একনজরে দেখুন:

➡️ টেবিলটি সম্পূর্ণ দেখতে পাশে স্ক্রল করুন ➡️

পাসপোর্টের ধরন পৃষ্ঠা সংখ্যা মেয়াদ সাধারণ ফি জরুরি ফি (৩-৭ দিন) অতিজরুরি ফি (২ দিন)
e-Passport ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছর ৩,০০০ টাকা ৬,০০০ টাকা ৮,০০০ টাকা
e-Passport ৬৪ পৃষ্ঠা ৫ বছর ৩,৫০০ টাকা ৭,০০০ টাকা ৯,০০০ টাকা
e-Passport ৪৮ পৃষ্ঠা ১০ বছর ৫,০০০ টাকা ৮,০০০ টাকা ১০,০০০ টাকা
e-Passport ৬৪ পৃষ্ঠা ১০ বছর ৫,৫০০ টাকা ৯,০০০ টাকা ১২,০০০ টাকা

🚨 দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লেখিত পাসপোর্ট ফি ও অন্যান্য তথ্য বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান নির্ধারিত তথ্য অনুযায়ী উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই ফি বা নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য Bangladesh e-Passport Portal⁠ থেকে যাচাই করে নেওয়া ভালো। 🚨

সাধারণত নিয়মিত পাসপোর্টের জন্য ১৫ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে যদি জরুরি ভ্রমণ থাকে তাহলে জরুরি বা অতিজরুরি ক্যাটাগরিতে আবেদন করে তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। পাসপোর্ট ফি সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় বা অনলাইনে Bkash, Nagad, Rocket-এর মাধ্যমেও দেওয়া যায়।

এই ফি কাঠামো মূলত নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির গতির উপর। অর্থাৎ আপনি কত দ্রুত পাসপোর্ট চান এবং কত দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যবহার করতে চান - এই দুই বিষয় মিলেই মোট খরচ নির্ধারিত হয়। সাধারণভাবে বলা যায়, একই ধরনের পাসপোর্ট হলেও দ্রুত ডেলিভারি নিতে গেলে খরচ কিছুটা বেশি হয়, আর স্বাভাবিক সময় নিলে তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাসপোর্ট করা যায়।

সাধারণত নিয়মিত পাসপোর্টের জন্য ১৫ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে যদি জরুরি ভ্রমণ থাকে তাহলে জরুরি বা অতিজরুরি ক্যাটাগরিতে আবেদন করলে তুলনামূলকভাবে অনেক দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া যায়। এই ক্ষেত্রে প্রসেসিং দ্রুত হওয়ার কারণে কিছুটা অতিরিক্ত ফি দিতে হয়, কিন্তু সময় বাঁচানোর জন্য এটি অনেক সময় খুবই কার্যকর হয়। অনেকেই শেষ মুহূর্তে ভিসা বা ট্রাভেল প্ল্যান পাওয়ার কারণে এই দ্রুত সার্ভিসগুলো বেছে নেন, তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করা থাকলে খরচও কমানো সম্ভব হয়।

পাসপোর্ট ফি সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় বা অনলাইনে Bkash, Nagad, Rocket-এর মাধ্যমেও দেওয়া যায়। অর্থাৎ এখন আর শুধু ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই, চাইলে ঘরে বসেই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে খুব সহজেই পেমেন্ট সম্পন্ন করা সম্ভব। পেমেন্ট করার পর সাথে সাথেই একটি রসিদ বা কনফার্মেশন পাওয়া যায়, যা পরবর্তী আবেদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় এবং এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করার ধাপগুলো

বর্তমানে বাংলাদেশে পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করা সবচেয়ে সহজ এবং সুবিধাজনক পদ্ধতি হিসেবে ধরা হয়। আগে যেখানে পুরো প্রক্রিয়ার জন্য বারবার অফিসে যেতে হতো, এখন অনেকটাই অনলাইনে ঘরে বসে শুরু করা যায়। সরকারের e-Passport পোর্টাল (www.epassport.gov.bd) এর মাধ্যমে খুব সহজেই আবেদন করা সম্ভব। তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক (ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষর) দিতে হয়। এটা অনেকেই প্রথমে না জেনে বিভ্রান্ত হয়ে যান।

অনলাইনে আবেদন করার পুরো প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:

  1. প্রথমে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এখানে আপনার একটি প্রোফাইল তৈরি করা হয়, যেখান থেকে পরবর্তী সব ধাপ সম্পন্ন হবে।
  2. এরপর আপনার NID নম্বর এবং জন্মতারিখ ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এই তথ্যগুলো অবশ্যই সঠিক হতে হবে, কারণ এটি সরাসরি সরকারি ডাটাবেসের সাথে যাচাই করা হয়।
  3. রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে অনলাইন আবেদন ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত সব তথ্য ধাপে ধাপে পূরণ করতে হবে। এখানে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, পেশা এবং জরুরি যোগাযোগ নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়। প্রতিটি তথ্য খুব সতর্কভাবে পূরণ করা জরুরি, কারণ সামান্য ভুল হলেও পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে।
  4. এরপর আপনাকে পাসপোর্টের ধরন নির্বাচন করতে হবে। এখানে আপনি ৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ বা ১০ বছরের মেয়াদ বেছে নিতে পারবেন। একই সাথে আপনি সাধারণ, জরুরি বা অতিজরুরি ডেলিভারি অপশনও নির্বাচন করবেন।
  5. তারপর আপনার বিভাগ অনুযায়ী নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করতে হবে। সাধারণত যেই এলাকায় আপনি থাকেন, সেই এলাকার অফিস নির্বাচন করাই ভালো। এরপর একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ বেছে নিতে হয়, যেদিন আপনি সশরীরে অফিসে যাবেন।
  6. আবেদন সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি অনলাইনে বা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ পেমেন্ট ছাড়া আবেদন সম্পূর্ণ হয় না।
  7. ফি পরিশোধ করার পর পেমেন্ট কনফার্মেশন স্লিপ এবং পূর্ণাঙ্গ আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখতে হবে। এগুলো পরবর্তীতে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হয়।
  8. সবশেষে নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আপনার সব মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এখানেই মূলত আপনার পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

একটা গুরুত্বপূর্ণ টিপস হলো - অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সকালে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ভালো। বিশেষ করে ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে দুপুরের পর প্রচুর ভিড় হয়, ফলে সময় বেশি লাগে এবং অপেক্ষা করতে হয়। তাই সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পৌঁছালে কাজ অনেক দ্রুত এবং ঝামেলাহীনভাবে শেষ করা যায়।

পাসপোর্ট আবেদনে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

পাসপোর্ট আবেদনের সময় অনেকেই ছোট ছোট কিছু ভুল করে ফেলেন, যেগুলো প্রথমে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও পরে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে এই ভুলগুলোর কারণে আবেদন আটকে যায়, আবার কখনো পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতে হয়। তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকা খুব জরুরি। নিচে এমন কিছু সাধারণ ভুল উল্লেখ করা হলো যেগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত:

১। নাম বাংলা ও ইংরেজিতে অবশ্যই NID অনুযায়ী হুবহু লিখতে হবে - সামান্য বানান পার্থক্যও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় একটি অক্ষরের ভুলের কারণে আবেদন যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং পরে সংশোধনের জন্য আবার সময় নষ্ট করতে হয়।

২। ছবি অবশ্যই সাম্প্রতিক সময়ে তোলা হতে হবে। পুরনো ছবি বা পরিবর্তিত চেহারার ছবি ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া সানগ্লাস, টুপি বা অতিরিক্ত ফিল্টারযুক্ত ছবি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সাথে মিল না-ও খেতে পারে।

৩। কাবিননামার ফটোকপি অবশ্যই পরিষ্কার এবং সুস্পষ্ট হতে হবে। ঝাপসা বা অর্ধেক দেখা যায় এমন কপি অনেক সময় গ্রহণ করা হয় না, ফলে আবার নতুন করে কপি সংগ্রহ করতে হয়।

পাসপোর্ট আবেদনে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
৪। সব ধরনের কাগজপত্রের মূল কপি অবশ্যই সাথে রাখতে হবে। শুধু ফটোকপি নিয়ে গেলে অনেক সময় অফিসে যাচাই করা সম্ভব হয় না, ফলে আবেদন প্রক্রিয়া থেমে যেতে পারে।

৫। আবেদন ফর্মে দেওয়া মোবাইল নম্বর অবশ্যই সঠিক এবং সচল থাকতে হবে। কারণ পাসপোর্টের বিভিন্ন স্ট্যাটাস আপডেট এবং গুরুত্বপূর্ণ SMS এই নম্বরে পাঠানো হয়। ভুল নম্বর দিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস হয়ে যেতে পারে।

৬। অনলাইন আবেদন করার সময় NID-এর সাথে সব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিতে হবে। ঠিকানা, নাম, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা বললে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। চট্টগ্রামের একজন নারী পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁর সব কাগজপত্র ঠিক ছিল এবং প্রক্রিয়াও ভালোভাবে এগোচ্ছিল। কিন্তু পরে দেখা যায় তাঁর কাবিননামায় নামের বানানে সামান্য পার্থক্য আছে। NID-তে নাম ছিল “রাহিমা”, কিন্তু কাবিননামায় লেখা ছিল “রহিমা”। এই ছোট্ট বানানের পার্থক্যের কারণে তাঁকে আবার কাজি অফিসে গিয়ে সংশোধন করে নতুন কপি সংগ্রহ করতে হয়েছিল। এতে শুধু সময়ই নষ্ট হয়নি, বরং পুরো প্রক্রিয়াও কিছুটা দেরি হয়ে যায়।

তাই শুরু থেকেই সব ডকুমেন্ট ভালোভাবে যাচাই করা এবং প্রতিটি কাগজে নাম, ঠিকানা ও তথ্য একদম মিল আছে কিনা তা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিদেশে অবস্থানরত বিবাহিতদের পাসপোর্ট নবায়নের নিয়ম

অনেক বাংলাদেশি বিবাহিত দম্পতি আছেন যাঁরা কাজ, পড়াশোনা বা পারিবারিক কারণে বিদেশে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করেন। এই সময়ের মধ্যে অনেকের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, ফলে সেটি নবায়ন করার প্রয়োজন পড়ে। বিদেশে থেকেও পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ রয়েছে, তবে এটি সরাসরি বাংলাদেশে নয় - বরং সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।

বিদেশে অবস্থান করলেও বিবাহিতদের পাসপোর্ট নবায়নের মৌলিক প্রক্রিয়া অনেকটা একই থাকে। তবে কিছু অতিরিক্ত ডকুমেন্ট এবং নিয়ম অনুসরণ করতে হয়, যেগুলো দূতাবাস অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া সবসময়ই ভালো।

বিদেশ থেকে পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় পাসপোর্ট নবায়নের জন্য সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন হয়-

  • পুরনো পাসপোর্টের মূল কপি এবং ফটোকপি (বিশেষ করে তথ্য যাচাইয়ের জন্য সব পৃষ্ঠা প্রয়োজন হতে পারে)
  • বর্তমান ভিসা এবং রেসিডেন্স পারমিটের ফটোকপি - এটি আপনার বৈধ অবস্থান প্রমাণ করে আপডেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর ফটোকপি - অনেক ক্ষেত্রে এটি দেশে থাকা পরিবারের মাধ্যমে সংগ্রহ করে পাঠাতে হয়
  •  বিবাহের কাবিননামার সত্যায়িত কপি - বিশেষ করে বিবাহিত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট
  • দূতাবাস নির্ধারিত আবেদন ফর্ম - এটি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করে পূরণ করতে হয়
  • দূতাবাস নির্ধারিত ফি - এটি সাধারণত স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয় এবং প্রতিটি দেশে আলাদা হতে পারে

অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তায় সামান্য পরিবর্তন থাকে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কুয়েতে কর্মরত একজন বাংলাদেশি দম্পতি একই সময়ে তাঁদের পাসপোর্ট নবায়নের প্রয়োজন পড়েছিল। তাঁরা কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে একসাথে আবেদন করেন। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যেই তাঁদের নতুন পাসপোর্ট হাতে পান। এই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় যে বিদেশে থেকেও পাসপোর্ট নবায়ন তুলনামূলকভাবে সহজ, যদি সঠিকভাবে নিয়ম অনুসরণ করা হয়। বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক তথ্য এবং আপডেটেড নির্দেশনা অনুসরণ করা। কারণ নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ পাসপোর্ট নবায়ন করতে কি কি কাগজ লাগে

শেষ কথা: বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে - এই প্রশ্নের উত্তর এখন আশা করি আপনার কাছে পরিষ্কার। মোট কথা হলো: সঠিক কাগজপত্র, আপডেটেড NID, বিবাহের কাবিননামা এবং অনলাইনে সঠিকভাবে আবেদন করলে পাসপোর্ট বানানো আর কোনো ভয়ের বিষয় না। পুরুষ হোন বা মহিলা - দুজনের জন্যই প্রক্রিয়াটা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে, বিশেষ করে e-Passport চালু হওয়ার পর থেকে।

একটাই পরামর্শ - পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬ মাস আগে নবায়নের উদ্যোগ নিন। অনেক দেশ ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্টের ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদ থাকার শর্ত দেয়। আর যাঁরা নতুন পাসপোর্ট বানাচ্ছেন, তাঁরা অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সব মূল কাগজপত্র এবং তাদের ফটোকপি সাথে নিয়ে যান - একটাও বাদ পড়লে আবার আসতে হবে, যা সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট করবে।

এই আর্টিকেলে দেওয়া তথ্যগুলো সাধারণ তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাসপোর্ট সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদনের আগে সরকারি ওয়েবসাইট (www.epassport.gov.bd) বা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোব্লেন্ড বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url