জলাতঙ্ক রোগের টিকার মেয়াদ কতদিন?
জলাতঙ্ক বা র্যাবিস এমন একটি প্রাণঘাতী রোগ, যা সাধারণত কুকুর, বিড়াল, বানর কিংবা অন্য সংক্রমিত প্রাণীর কামর বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই রোগের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হল– একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো প্রায় সম্ভব হয় না।
তবে আশার আলো হলো, সঠিক সময়ে সঠিক টিকা নিলে জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশে এখনো অনেক মানুষ জানেই না জলাতঙ্কের টিকার মেয়াদ কত দিন থাকে কত ডোজ নিতে হয় কিংবা আগে টিকা নেওয়া থাকলে আবার টিকা নেওয়া লাগবে কিনা। এইসব প্রশ্নের উত্তর না জানার কারণে অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এই আর্টিকেলে সহজ ভাষায় জলাতঙ্ক রোগের টিকার মেয়াদ, কার্যকারিতা, পুনরায় টিকা নেওয়ার নিয়ম এবং গুরুত্বপূর্ণ সর্তকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।পেইজ সূচিপত্রঃ জলাতঙ্ক রোগের টিকার মেয়াদ কতদিন– এই সম্পর্কে যা যা জানবো
- জলাতঙ্ক রোগ কি?
- জলাতঙ্কের টিকা কিভাবে কাজ করে?
- জলাতঙ্ক রোগের টিকার মেয়াদ কতদিন?
- সাধারণভাবে কতদিন সুরক্ষা থাকে?
- আগে টিকা নেওয়া থাকলে আবার টিকা লাগবে কি?
- সম্পূর্ণ ডোজ বলতে কী বোঝায়?
- কারা আগে থেকেই জলাতঙ্কের টিকা নেন?
- কুকুর কামড়ানোর পর কত দ্রুত টিকা নিতে হবে?
- কামড়ের পর করণীয়
- শুধু টিকা নিলেই কি নিরাপদ?
- টিকার মেয়াদ শেষ হলে কি হয়?
- জলাতঙ্কের টিকা কি আজীবন সুরক্ষা দেয়?
- জলাতঙ্কের টিকা কি নিরাপদ?
- টিকা নেওয়ার পর কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে?
- কুকুর বা বিড়ালের সামান্য আঁচড় কি বিপদজনক?
- জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কি?
- কখন দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত বা জরুরি?
- জলাতঙ্ক সম্পর্কে সচেতনতা কেন জরুরী?
- শেষ কথা: লেখক এর মন্তব্য
জলাতঙ্ক রোগ কি?
জলাতঙ্ক রোগ হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ।আক্রান্ত প্রাণীর লালা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত নিচের কারণে সংক্রমণ হয়ে থাকে:
- কুকুরের কামড়
- বিড়ালের আঁচড়
- বানরের কামড়
- আক্রান্ত প্রাণীর লালা খোলা ক্ষতে লাগলে
ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। তখন রোগের লক্ষণ দেখা দিতে প্রকাশ পেতে শুরু করে।
জলাতঙ্কের টিকা কিভাবে কাজ করে?
জলাতঙ্কের টিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে খুবই গভীরভাবে সক্রিয় করে। টিকা নেওয়ার পর পরই শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করে যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।যদি কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের পর পরই দ্রুত টিকা নেন তাহলে ভাইরাস শরীরের ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।এজন্য অযথা দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং টিকা নিয়ে নিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ জলাতঙ্ক রোগ কেন এত ভয়ংকর এবং প্রাণঘাতী?
জলাতঙ্ক রোগের টিকার মেয়াদ কতদিন?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।যেটা আমাদের অনেকেরই অজানা। সাধারণভাবে জলাতঙ্কের টিকার কার্যকারিতা দীর্ঘদিন থাকতে পারে, তবে এটি নির্ভর করে–
ব্যক্তি কত ডোজ টিকা নিয়েছেন, কখন টিকা নিয়েছেন, কোন পরিস্থিতিতে টিকা নেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে আবার আক্রান্ত হয়েছেন কিনা।এমন অনেক বিষয়ের ওপর জলাতঙ্ক রোগের টিকার মেয়াদ বা কার্যকারিতা নির্ভর করে।সাধারণভাবে কতদিন সুরক্ষা থাকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ ডোজ নেওয়া থাকলে শরীরে দীর্ঘ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।তবে এর মানে এই নয় যে ভবিষ্যতে আবার কামড়ালে আর টিকা নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কোন ব্যক্তি দ্বিতীয়বার আক্রান্তের শিকার হলে তাকে আবারও ডাক্তারের নিকট গিয়ে পরামর্শ নিতে হবে।
আগে টিকা নেওয়া থাকলে আবার টিকা লাগবে কি?
উত্তর হলো হ্যাঁ লাগতে পারে।যদি কেউ আগে সম্পূর্ণ ডোজ জলাতঙ্কের টিকা নিয়ে থাকেন এবং পরে আবার কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড় খেয়ে থাকেন তাহলে সাধারণত বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।এই ক্ষেত্রে চিকিৎসক রুগীর পূর্বের টিকা নেওয়ার ইতিহাস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিবেন।চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সম্পূর্ণ ডোজ বলতে কী বোঝায়?
অনেকেই এক বা দুটি ইনজেকশন নেওয়ার পর ভাবেন যে তারা পুরোপুরি নিরাপদ কিন্তু বাস্তবে সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ নিতে হবে। নির্ধারিত সময় উপেক্ষা করে বা অবহেলা করে দেরিতে অথবা খুব তাড়াতাড়ি ডোজ নেওয়া যাবে না।নির্ধারিত সময় সময়ে ডোজগুলো কমপ্লিট করতে হবে।যদি কোন কারণে একটি ডোজ বাদ পড়ে তাহলে সুরক্ষা কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ কুকুর বা বিড়ালের সামান্য আঁচড়কেও কেন গুরুত্ব দিতে হবে?
কারা আগে থেকেই জলাতঙ্কের টিকা নেন?
কিছু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় কাজ করেন। যেমন: পশু চিকিৎসক, কুকুর ধরার কর্মী, প্রাণী নিয়ে গবেষক এবং ল্যাবরেটরি কর্মীসহ যারা এই ধরনের পেশায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।এদের অনেকেই আগাম বা প্রি –এক্সপোজার ভ্যাকসিন নেন।
প্রি–এক্সপোজার ও পোস্ট– এক্সপোজার এর মধ্যকার পার্থক্য হলো।
১. প্রি– এক্সপোজার ভ্যাকসিনঃ এটি আগে থেকেই নেওয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমে।
২.পোস্ট–এক্সপোজার ভ্যাকসিনঃ কামড় বা আঁচড়ের পর যে টিকা দেওয়া হয়, সেটা পোস্ট– এক্সপোজার ভ্যাকসিন।
বাংলাদেশে সাধারণত মানুষ কামড় খাওয়ার পরে টিকা নিয়ে থাকেন।
কুকুর কামড়ানোর পর কত দ্রুত টিকা নিতে হবে?
যত দ্রুত সম্ভব তত দ্রুত নিয়ে ফেলতে হবে।অনেকেই ভাবেন ১-২ দিন পরেও নিলে সমস্যা নেই।আবার অনেকে বিশেষ করে গ্রামীণ মানুষ সেই সময় নানা কুসংস্কারের মধ্যে বসে থাকেন। জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে দেরি করা কতটা যে বিপদজনক সেটা কেবল যিনি আক্রান্ত হয়েছেন তিনিই ভালো জানেন।সুতরাং সর্বদা সতর্ক থাকুন এবং অবহেলা করা হতে বিরত থাকুন।
কামড়ের পর করণীয়:
- ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান পানি দিয়ে 15 থেকে 20 মিনিট ধুতে হবে।
- যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যেতে হবে
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক।
শুধু টিকা নিলেই কি নিরাপদ?
সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজ্য নয়। যদি কামড় গুরুতর হয় বিশেষ করে – মুখে, মাথায়, ঘাড়ে গভীর ক্ষত হলে তাহলে Rabies Immunoglobulin (RIG) ইনজেকশনও লাগতে পারে। অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জানেন না। ফলাফল স্বরূপ টিকা নিয়েও কাজ হতে সময় লাগে অথবা ব্যর্থ হয়। এজন্য কামড়টা কতটা গভীর সেটা চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন এবং ভালো পরামর্শ বা চিকিৎসাও কেবল চিকিৎসকই দিতে পারবেন।
টিকার মেয়াদ শেষ হলে কি হয়?
যদি অনেক বছর আগে টিকা নেওয়া হয়ে থাকে এবং পরে আবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় তাহলে চিকিৎসক নতুন করে বুস্টার ডোজ দিতে পারেন। কারণ সময়ের সঙ্গে শরীরের অ্যান্টিবডির মাত্রা কমে যেতে শুরু করে। অ্যান্টিবডির মাত্রা বাড়াতে হলে টিকা নেওয়া প্রয়োজন পড়বে আর চিকিৎসক বুস্টার ডোজ দিলে পুনরায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে এবং মৃত্যুঝুঁকিও অনেকাংশেই কমে যাবে।
জলাতঙ্কের টিকা কি আজীবন সুরক্ষা দেয়?
উত্তর হলো না। এটিকে সবসময় আজীবনের সুরক্ষা বলা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সুরক্ষা থাকতে পারে,কিন্তু পুনরায় ঝুঁকি তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আবার টিকা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।আপনাকে যে টিকা টা দেওয়া হবে সেই টিকা সম্পর্কে চিকিৎসকের নিকট বিস্তারিতভাবে জেনে নিবেন।
আরও পড়ুনঃ জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রথম ২০ মিনিট কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
জলাতঙ্কের টিকা কি নিরাপদ?
উত্তর হলো হ্যাঁ, আধুনিক জলাতঙ্কের টিকা সাধারণত নিরাপদ এবং কার্যকর। আগের তুলনায় বর্তমান ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক কম এবং প্রায় প্রতিটি সরকারি বেসরকারি হসপিটালেই এখন ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। আগের তুলনায় বর্তমানে ভ্যাকসিন খুবই সহজলভ্য। এজন্য কোন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হলে টেনশন বা ভয়ের কিছু নেই যথাযথ চিকিৎসা নিলেই এর সমাধান নিশ্চিত।
টিকা নেওয়ার পর কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে?
সাধারণ কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।যেমন– ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা,হালকা জ্বর,দুর্বল লাগা,! মাথাব্যথা এইসব সাধারনত সাময়িক সময়ের জন্য হতে পারে।তবে যেহেতু মানব শরীরের কার্যকারিতা সকলের এক নয় সুতরাং কারোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখাও যেতে পারে আবার কারোর নাও দেখা যেতে পারে।
কুকুর বা বিড়ালের সামান্য আঁচড় কি বিপদজনক?
বিপদজনক হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। এটা নির্ভর করছে ক্ষতের গভীরতার ওপর। অনেক মানুষ শুধু রক্ত বের হলে ভয় পেয়ে যান।কিন্তু সামান্য আচড় থেকেও ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতেই পারে।
তাই যেকোনো আচড় বা কামড় গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। অযথা সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত ভুল চিকিৎসা বাংলাদেশে এখনো অনেক মানুষ কামড়ের পর ক্ষতস্থানে হলুদ, চুন, মাটি, তেল ইত্যাদি লাগান। এইসব কোনোভাবেই সঠিক চিকিৎসা নয় বরং এতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কি?
বিশেষজ্ঞদের মতে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। যথা:
- ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান পানি দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধোঁয়া।
- দ্রুত টিকা নেওয়া, দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
- সম্পূর্ণ ডোজ শেষ করা অথবা সব ডোজ ঠিক সময় নেওয়া।
- সামাজিক কুসংস্কার এড়িয়ে চলা।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত বা জরুরি?
নিচের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে:
- মুখ বা মাথায় কামড়
- গভীর ক্ষতের সৃষ্টি
- অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া
- পাগলা বা অসুস্থ প্রাণীর কামর
- অজানা কুকুরের কামড়
জলাতঙ্ক সম্পর্কে সচেতনতা কেন জরুরী?
বাংলাদেশে প্রতিবছর বহু মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হন।এর বড় কারণ হলো– সচেতনতার অভাব, দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া, অসম্পূর্ণ টিকা গ্রহণ, ভুল ধারণা ইত্যাদি।যদি মানুষ সঠিক তথ্য জানেন তাহলে অনেক মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর বর্তমান যুগ খুবই উন্নত, আক্রান্ত হওয়ার পর ডাক্তারের কাছে পৌঁছানো অব্দি অনলাইনের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলে ঝুঁকি এড়ানো অনেকটাই সম্ভব।
শেষ কথা: লেখক এর মন্তব্য
জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ যা একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী।তবে সঠিক সময় টিকা নিলে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।জলাতঙ্কের টিকার সুরক্ষা দীর্ঘদিন থাকতে পারে,কিন্তু ভবিষ্যতে আবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কখনোই ধরে নেওয়া উচিত নয় যে একবার টিকা নিলেই সারা জীবনের জন্য নিরাপদ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো–কুকুর বা বিড়ালের কামরে কিংবা আঁচড়কে কখনো অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত সাবান পানি দিয়ে ধোয়ার সময়মতো টিকা নেওয়া এবং সম্পূর্ণ ডোজ শেষ করাই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।



ইনফোব্লেন্ড বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url