উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি জানা থাকলে নিজের কম্পিউটারে নতুন অপারেটিং
সিস্টেম সেটআপ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। অনেকেই মনে করেন এটি শুধু অভিজ্ঞ
টেকনিশিয়ানদের কাজ, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি ততটাও কঠিন নয়। সঠিক ধাপগুলো
অনুসরণ করলে যে কেউ নিজ থেকেই উইন্ডোজ ১১ ইন্সটল করতে পারেন।
কম্পিউটার ধীরগতির হয়ে গেলে বা বিভিন্ন সফটওয়্যার এর সমস্যার কারণে নতুন করে
উইন্ডোজ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া নতুন পিসি বা ল্যাপটপেও অপারেটিং
সিস্টেম ইনস্টল করতে হয়। উইন্ডোজ ১১ আধুনিক ডিজাইন, উন্নত নিরাপত্তা এবং ভালো
পারফর্মেন্সের জন্য জনপ্রিয়। তাই অনেক ব্যবহারকারী এখন এই সংস্করণটি বেছে
নিচ্ছেন। এই গাইডে পুরো ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া সহজ ভাষায় তুলে ধরা
হবে।
উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি: শুরুর আগে যা জানা দরকার
উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করার আগে আপনাকে কিছু প্রাথমিক বিষয়
জানতে হবে। অনেকে সরাসরি ইনস্টলেশন এ ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে নানা সমস্যাই
পড়েন। তাই প্রস্তুতির এই অংশটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার কম্পিউটার কি উইন্ডোজ ১১ চালাতে পারবে?
উইন্ডোজ ১১ চালাতে হলে কম্পিউটারে কিছু নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার থাকা লাগবে।
মাইক্রোসফট এর জন্য বেশ কিছু শর্ত রেখেছে। নিচে সেগুলো দেওয়া হল:
প্রসেসর (processor): উইন্ডোজ ১১ চালাতে ন্যূনতম ১ গিগাহার্টজ বা তার বেশি
গতির প্রসেসর দরকার। তবে প্রসেসরটি অবশ্যই ৬৪-বিট হতে হবে এবং মাইক্রোসফট এর
সাপোর্টেড প্রসেসর লিস্টে থাকতে হবে। Intel এর ক্ষেত্রে অষ্টম প্রজন্ম বা তার
পরের core সিরিজ এবং AMD এর ক্ষেত্রে Ryzen 2000 সিরিজ বা পরের মডেল দরকার।
র্যাম (ram): ন্যূনতম ৪ গিগাবাইট র্যাম লাগবে। তবে স্বাভাবিকভাবে
ভালো পারফর্মেন্সের জন্য ৮ গিগাবাইট র্যাম থাকলে অনেক ভালো।
স্টোরেজ (storage): হার্ডডিস্কে অন্তত ৬৪ গিগাবাইট ফাঁকা জায়গা
থাকতে হবে।
TPM 2.0: এটি উইন্ডোজ ১১ এর একটি বিশেষ শর্ত। TMP মানে হলো Trusted
Platform Module—এটি একটি নিরাপত্তা চিপ যা মাদারবোর্ডে বা CPU এর ভেতরে
থাকে। আপনার কম্পিউটারে TPM 2.0 আছে কিনা সেটা জানতে Windows Key + R চেপে
tpm.msc লিখুন এবং Enter দিন। যদি "TPM 2.0 is ready for use" লেখা আসে, তাহলে
আপনি প্রস্তুত।
Secure Boot: BIOS এ Secure Boot অপশন চালু থাকতে হবে।
ডিসপ্লে: ন্যূনতম ৭২০ পি রেজোলিউশনের মনিটর এবং ৯ ইঞ্চি বা বড়
স্কিন দরকার।
ইন্টারনেট সংযোগ: Windows 11 Home সংস্করণ ইন্সটলের জন্য সেটআপের সময়
ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে।
PC Health Check দিয়ে যাচাই করুন:Microsoft একটি বিনামূল্যের টুল দিয়েছে যার নাম Pc Health Check।
এটি ডাউনলোড করে রান করালেই বলে দেবে আপনার কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১ চালাতে পারবে
কিনা। Microsoft এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এটি ডাউনলোড করুন।
এই পদক্ষেপটি অনেকে এড়িয়ে যান এবং পরে অনুতাপ করেন। উইন্ডোজ ইনস্টল করার
সময়—বিশেষত ক্লিন ইনস্টলের ক্ষেত্রে—আপনার হার্ডডিস্কের সব ডেটা মুছে যেতে পারে।
তাই আগে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এর ব্যাকআপ নেওয়া অপরিহার্য।
কোন কোন ফাইল ব্যাকআপ নেবেন:
ডেস্কটপে থাকা সব ফাইল
Documents, Pictures, Videos, Music ফোল্ডারের সবকিছু
ব্রাউজারের বুকমার্ক(Chrome এ Sign in থাকলে অটো সিঙ্ক হবে)
গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের লাইসেন্স কি বা সিরিয়াল নম্বর
ইমেইল সেটিংস এবং যোগাযোগের তালিকা
গেমের সেভ ফাইল (যদি থাকে)
ব্যাকআপের উপায়:
১. বাহ্যিক হার্ডডিস্ক বা পেনড্রাইভ: সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। একটি ইউএসবি হার্ডডিক্স
এ কপি করুন।
২. গুগল ড্রাইভ বা ওয়ান ড্রাইভ: এর বিল্ট ইন ব্যাকআপ টুল ব্যবহার করুন।
৩. Windows Backup: Windows এর বিল্ট-ইন ব্যাকআপ টুল ব্যবহার করুন।
বুটেবল উইন্ডোজ ১১ পেনড্রাইভ তৈরি করার পদ্ধতি
উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করতে হলে প্রথমে একটি বুটেবল ইউএসবি ড্রাইভ তৈরি করতে হবে। এই
ড্রাইভ থেকেই কম্পিউটার উইন্ডোজ ইনস্টল করার নির্দেশনা পাবে।এই কাজের জন্য আপনার
দরকার হবে:
কমপক্ষে ৮ গিগাবাইটের একটি পেনড্রাইভ বা ইউএসবি হার্ডডিস্ক (পেনড্রাইভের সব
ডেটা মুছে যাবে)
ইন্টারনেট সংযোগ
Media Creation Tool দিয়ে বুটেবল ড্রাইভ তৈরি
Microsoft এর নিজের টুল ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ এবং নিরাপদ পদ্ধতি।
ধাপ ১: Microsoft এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান এবং "Download Windows 11"
পেজ খুঁজুন। সেখানে "Create Windows 11 Installation Media" অপশন থেকে
Media Creation Tool ডাউনলোড করুন।
ধাপ ২: ডাউনলোড হওয়া ফাইলটি চালু করুন। License Agreement স্ক্রিন আসবে,
Accept বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩:পরের স্ক্রিনে ভাষা এবং সংস্করণ নির্বাচন করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য
language: "English (United States)" বা "English(International)" রাখতে পারেন।
Edition: "Windows 11" রাখুন।
ধাপ ৪: "USB flash drive" অপশনটি সিলেক্ট করুন এবং Next বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৫: আপনার পেনড্রাইভ টি সি সিলেক্ট করুন এবং Next বাটনে ক্লিক করুন। এরপর
টুলটি নিজেই উইন্ডোজ ডাউনলোড করে পেনড্রাইভে ইনস্টলযোগ্য ফরমেটে সেট করে দেবে।
পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে ১ ঘন্টা বা এর অধিক সময় লাগতে
পারে—ইন্টারনেটের গতির ওপর সেটা নির্ভর করে।
Rufus দিয়ে বুটেবল ফাইল তৈরি (বিকল্প পদ্ধতি)
অনেকে Rufus নামের একটি বিনামূল্যের সফটওয়্যার পছন্দ করেন কারণ এটি দিয়ে TPM বা
Secure Boot ছাড়াও ইনস্টল করা যায়। Rufus এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড
করে নিন। Windows 11 এর ISO ফাইলটি আলাদাভাবে ডাউনলোড করতে হবে Microsoft এর সাইট
থেকে।
Rufus চালু করে USB ড্রাইভ সিলেক্ট করুন, ISO ফাইলটি সিলেক্ট করুন, Partition
scheme হিসেবে GPT রাখুন এবং START বাটনে ক্লিক করুন। কিছুক্ষণের মধ্যে বুটেবল
ড্রাইভ তৈরি হয়ে যাবে।
BIOS সেটিং পরিবর্তন করে USB থেকে বুট করার উপায়
বুটেবল পেনড্রাইভ তৈরি হয়ে গেলে আপনাকে কম্পিউটারকে নির্দেশ দিতে হবে যে সে যেন
পেনড্রাইভ থেকে বুট নেয়, হার্ডডিস্ক থেকে নয়। এই কাজটি BIOS বা UEFI সেটিং
থেকে করতে হয়।
BIOS এ প্রবেশ করার পদ্ধতি:
কম্পিউটারকে রিস্টার্ট দিন এবং চালু হওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট কি চাপতে হবে।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য আলাদা কি ব্যবহার হয়:
Dell: F2 বা F12
HP: F10 বা Esc
Lenovo: F1,F2 বা F12
ASUS: F2 বা Delete
Acer: F2 বা Delete
সাধারণত কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় স্ক্রিনের নিচে লেখা থাকে "Press F2 to inter
setup" বা এই রকম কিছু। ওই লেখা দেখামাত্র সেই কি চাপুন।
Boot Priority পরিবর্তন করা :
BIOS এ ঢোকার পর Boot বা Boot order ট্যাবে যান। সেখানে ডিভাইসের একটি তালিকা
দেখবেন। আপনাকে USB ড্রাইভটাকে সবার উপরে নিয়ে আসতে হবে। সাধারণত উপর-নিচ তীর
চিহ্ন কি বা + / - কি ব্যবহার করে ক্রম পরিবর্তন করা যায়। পরিবর্তন করার পরে F10
চেপে Save বা Exit করুন।
Secure Boot চালু রাখুন:
উইন্ডোজ ১১ এর জন্য Secure Boot চালু রাখাই ভালো। Bios এর Security ট্যাবে গিয়ে
Secure Boot: Enabled করুন।
উইন্ডোজ ১১ ক্লিন ইনস্টল করার ধাপে ধাপে গাইড
এই পদ্ধতিতে পুরনো সব ডেটা মুছে গিয়ে একদম নতুনভাবে উইন্ডোজ ইনস্টল হবে। এটি
সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি কারণ পুরনো কোন সমস্যা বা ভাইরাস থাকবে না।
ধাপ ১: পেনড্রাইভ লাগান এবং কম্পিউটার চালু করুন।বুটেবল পেনড্রাইভ টি কম্পিউটারে
লাগান এবং রিস্টার্ট দিন। যদি BIOS সেটিং ঠিক মতো করা থাকে তাহলে কিছুক্ষণের
মধ্যেই Windows Setup স্ক্রিন আসবে।
ধাপ ২: ভাষা ও সময় নির্বাচন করুন।
প্রথম স্ক্রিনে Language to install, Time & Currency Format এবং Keyboard or
input method নির্বাচন করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য:
Language: English (United States)
Time and currency format: English(Bangladesh ) — না থাকলে English(United
States) রাখুন Keyboard: US
সিলেক্ট করে "Next" এ ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: Install now
পরের স্ক্রিনে "Install now" বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: প্রোডাক্ট কি
উইন্ডোজের একটি বৈধ প্রোডাক্ট কি লাগবে। যদি আপনার কাছে কি না থাকে, "I
don't have a product key" তে ক্লিক করুন—পরে এক্টিভেট করা যাবে। আর যদি আগের
কম্পিউটারে ডিজিটালি এক্টিভেটেড উইন্ডোজ ছিল, তাহলে সেই একই হার্ডওয়ারে ইনস্টল
করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটিভেট হয়ে যাবে।
ধাপ ৫: উইন্ডোজ সংস্করণ নির্বাচন
এখানে Windows 11 home বা Windows 11 Pro নির্বাচন করুন। সাধারণ ব্যবহারকারীদের
জন্য Home যথেষ্ট। ব্যবসায়িক বা উন্নত ব্যবহারের জন্য Pro নিন।
ধাপ ৬: লাইসেন্স শর্তে সম্মতি "I accept the license terms" বক্সে টিক দিন
এবং Next এ ক্লিক করুন।
ধাপ ৭: ইনস্টলের ধরন নির্বাচন
দুটো অপশন দেখবেন:
Upgrade: আগের উইন্ডোজ রেখে আপডেট করবে ফাইল ও সফটওয়্যার থাকবে।
Custom(Advanced): সম্পূর্ণ নতুন ইনস্টল সব মুছে যাবে। ক্লিন ইন্সটলের জন্য
Custom বেছে নিন।
ধাপ ৮: ড্রাইভ বা পার্টিশন নির্বাচন
এখানে হার্ডডিস্কের পার্টিশনগুলো দেখাবে। যে পার্টিশনে উইন্ডোজ ইনস্টল করতে চান
সেটি সিলেক্ট করুন (সাধারণত C: ড্রাইভ)। পার্টিশন ফরম্যাট করতে চাইলে Delete করে
নতুন করে unallocated space থেকে তৈরি করুন। সিলেক্ট করে "Next" এ ক্লিক
করুন।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: ভুল পার্টিশন ডিলিট করলে সব ডেটা হারাবেন। পার্টিশনের সাইজ
দেখে নিশ্চিত হন।
ধাপ ৯: ইনস্টলেশন শুরু
"Next" এ ক্লিক করলে উইন্ডোজ ইনস্টল শুরু হবে। এই পর্যায়ে কম্পিউটার দুই থেকে
তিনবার রিস্টার্ট নেবে।পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে ২০ থেকে ৪৫ মিনিট বা এরও অধিক
সময় লাগতে পারে।
ধাপ ১০: প্রাথমিক সেটআপ(OOBE)
ইনস্টল শেষে Out-of-Box Experience (OOBE) শুরু হবে:
দেশ নির্বাচন করুন: Bangladesh
কিবোর্ড লেআউট: US
মাইক্রোসফট একাউন্টে সাইন ইন করুন বা অফলাইনে একাউন্ট তৈরি করুন
পিন ও পাসওয়ার্ড সেট করুন
গোপনীয়তা সেটিং নির্ধারণ করুন
সবকিছু করা হলে ডেস্কটপে দেখা যাবে— উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল সম্পন্ন!
যদি আপনার কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১০ থাকে এবং আপনি ডেটা না হারিয়ে উইন্ডোজ ১১ তে
যেতে চান তাহলে আপগ্রেডের পথ নিন। এটি তুলনামূলক সহজ পদ্ধতি।
পদ্ধতি ১: Windows Update দিয়ে আপগ্রেড
যদি আপনার কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১ এর যোগ্যতা পূরণ করে তাহলে Windows update এ
নিজেই আপগ্রেড এর অফার আসতে পারে।
Settings > Windows Update এ যান এবং দেখুন "Windows 11 is ready for this PC"
বার্তা আছে কিনা। থাকলে "Download & Install" বাটনে ক্লিক করুন এবং প্রক্রিয়া
শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
পদ্ধতি ২: Installation Assistant দিয়ে আপগ্রেড
মাইক্রোসফটের "Windows 11 Installation Assistant" ডাউনলোড করে চালান। এটি
স্বয়ংক্রিয়ভাবে উইন্ডোজ ১১ ডাউনলোড করে আপগ্রেড করবে। আপনার ফাইল ও সফটওয়্যার
অক্ষুন্ন থাকবে।
আপগ্রেডের সুবিধা:
পুরনো ফাইল ও সফটওয়্যার থাকে
পরিচিত সেটিংস বজায় থাকে
তুলনামূলক কম ঝামেলা
আপগ্রেডের অসুবিধা
পুরনো সমস্যা বা ধীরগতি থেকে যেতে পারে
কিছু সফটওয়্যার বেমানান হতে পারে
ক্লিন ইনস্টলের মতো ফ্রেশ পারফরম্যান্স পাওয়া যায় না
উইন্ডোজ ১১ ইনস্টলের পর যা করতে হবে
ইনস্টল শেষ হলে কাজ কিন্তু পুরোপুরি শেষ হয়নি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি থাকে
যা না করলে কম্পিউটার ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে।
১. ড্রাইভার আপডেট করুন
নতুন উইন্ডোজের প্রয়োজনীয় ড্রাইভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল নাও হতে পারে।
বিশেষত:
গ্রাফিক্স কার্ড ড্রাইভার: NVIDIA হলে nvidia.com থেকে, AMD হলে amd.com থেকে
এবং Intel হলে intel.com থেকে ড্রাইভার ডাউনলোড করুন। এটি না করলে ডিসপ্লে
ঠিক মতো কাজ করবে না।
নেটওয়ার্ক ড্রাইভার: ইন্টারনেট না চললে এই ড্রাইভার আগে ইনস্টল করতে
হবে।
Device Manager (Start > সার্চে "Device Manager" লিখুন) থেকে দেখুন কোন
ডিভাইসে হলুদ বিস্ময় চিহ্ন আছে কিনা— থাকলে সেই ড্রাইভার ইনস্টল করতে হবে।
২. উইন্ডোজ আপডেট করুন
Settings > Windows update এ গিয়ে সব আপডেট ইনস্টল করুন। এটি নিরাপত্তা
ও স্থিতিশীলতার জন্য জরুরী।
৩. প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করুন
নতুন উইন্ডোজের সব সফটওয়্যার নতুন করে ইনস্টল করতে হবে প্রয়োজনীয় সকল
সফটওয়্যার এর তালিকা:
ব্রাউজার: Google Chrome, Mozilla Firefox
অফিস প্রোগ্রাম: Microsoft Office বা LibreOffice(বিনামূল্যে)
মিডিয়া প্লেয়ার: VLC
পিডিএফ রিডার: Adobe Reader বা Foxit Reader
নিরাপত্তা সফটওয়্যার: Windows Defender (বিল্ড-ইন) বা অ্যান্টিভাইরাস
ফাইল আর্কাইভার: WinRAR বা 7-Zip
৪. উইন্ডোজ অ্যাক্টিভেশন নিশ্চিত করুন
Settings > System > Activation এ গিয়ে দেখুন উইন্ডোজ অ্যাক্টিভেটেড আছে
কিনা। না থাকলে বৈধ কি দিয়ে এক্টিভেট করুন।
৫. সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি করুন
সব ঠিকঠাক হলে একটি রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি রাখুন। Start এ সার্চ করুন "Create a
restore point" এবং সেখান থেকে রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি করুন। ভবিষ্যতের
সমস্যা হলে এই পয়েন্টে ফিরে আসতে পারবেন।
উইন্ডোজ ১১ ইনস্টলে সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। এখানে কিছু
সাধারন সমস্যা এবং তার সমাধান দেওয়া হলো।
সমস্যা ১: "This PC doesn't currently meet Windows 11 system
requirements"
কারণ: আপনার কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১ এর ন্যূনতম হার্ডওয়্যার এর শর্ত পূরণ করছে
না।
সমাধান:
প্রথমে PC Health Check দিয়ে কোন শর্ত পূরণ হচ্ছে না সেটা জানুন।
TPM 2.0 সমস্যা হলে BIOS এ গিয়ে TPM বা PTT (intel) বা fTPM (AMD)
অপশন Enable করুন।
Secure Boot বন্ধ থাকলে BIOS থেকে চালু করুন।
প্রসেসর বা Ram যদি শর্ত পূরণ না করে তাহলে হার্ডওয়্যার আপডেট করতে হবে।
অথবা Refus ব্যবহার করে এই শর্ত বাইপাস করে ইনস্টল করা যায় (তবে সেটি
ঝুঁকিপূর্ণ)।
সমস্যা ২: পেনড্রাইভ থেকে বুট হচ্ছে না
কারণ: Boot Priority ঠিক নেই বা পেনড্রাইভ টি সঠিকভাবে বুটেবল করা হয়নি।
সমাধান:
BIOS এ গিয়ে Boot order চেক করুন, USB প্রথমে আছে কিনা দেখুন।
Fast Boot অপশন বন্ধ করুন।
পেনড্রাইভটি অন্য USB পোর্ট লাগিয়ে চেষ্টা করুন।
Media Creation Tool দিয়ে আবার বুটেবল ড্রাইভ তৈরি করুন।
সমস্যা ৩: ইনস্টলেশন এর মাঝখানে আটকে যাচ্ছে
কারণ: হার্ডওয়্যার সমস্যা, Ram ত্রুটি বা ক্ষতিগ্রস্ত ইনস্টলেশন মিডিয়া।
সমাধান:
কম্পিউটার রিস্টার্ট দিয়ে আবার চেষ্টা করুন।
পেনড্রাইভ পরিবর্তন করুন।
র্যাম একটা একটা করে খুলে পরীক্ষা করুন।
Windows Memory Diagnostic টুল দিয়ে RAM পরীক্ষা করা।
সমস্যা ৪: ইন্টারনেট ছাড়া ইনস্টল করা যাচ্ছে না
Windows 11 home এর নতুন সংস্করণে সেটআপের সময় ইন্টারনেট বাধ্যতামূলক করা
হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেট ছাড়াও করার উপায় আছে।
কম্পিউটার রিস্টার্ট হবে এবং এবার "I don't have Internet " অপশন দেখাবে।
সমস্যা ৫: ইনস্টলের পর কম্পিউটার খুব ধীর
কারণ: প্রথমে বুটের পর উইন্ডোজ ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক কাজ করে।
সমাধান:
প্রথম ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করে দেখুন।
সব আপডেট ইনস্টল করুন।
Startup apps কমান: Settings > Apps > Startup থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ
বন্ধ করুন।
ড্রাইভার আপডেট করুন।
উইন্ডোজ ১১ এর নতুন ফিচার যে আপনার কাজে লাগবে
উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার পর নতুন অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
কিছু নিচে তুলে ধরা হলো।
নতুন টাস্কবার ও স্টার্ট মেনু:
উইন্ডোজ ১১ এর স্টার্ট মেনু এখন স্ক্রিনের মাঝখানে।অনেকে প্রথমে এটাই অভ্যস্ত হতে
পারেন না। চাইলে Settings > Personalization > Taskbar > Taskbar
behaviors থেকে বাম দিকে সরিয়ে নেওয়া যাবে।
Snap Layouts (একসাথে একাধিক উইন্ডো):
যেকোনো উইন্ডোর Maximize বাটনে মাউস রাখলে বিভিন্ন লেআউট অপশন দেখা যাবে। এটি
দিয়ে স্ক্রিনকে দুই বা তিন ভাগে ভাগ করে আলাদা আলাদা কাজ করা যায়। অফিসের কাজে
এটি খুবই উপকারী।
Virtual Desktops:
একাধিক ভার্চুয়াল ডেক্সটপ তৈরি করা যায়। যেমন, একটাই অফিসের কাজ আর একটাই
ব্যক্তিগত কাজ আলাদা ভাবে রাখা যায়। Task View বাটন থেকে এটি ব্যবহার
করুন।
উন্নত উইজেটস:
Taskbar এর বাম দিকে Widgets বাটন থেকে আবহাওয়া, নিউজ, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি
দ্রুত দেখা যাবে।
Teams Chat সরাসরি:
মাইক্রোসফট টিমস চ্যাট এখন সরাসরি টাস্কবারে আছে। কাছের মানুষের সাথে সহজে
যোগাযোগ করা যাবে।
Direct Storage প্রযুক্তি:
গেমারদের জন্য সুখবর— Direct Storage প্রযুক্তির কারণে গেম লোড হওয়ার সময় অনেক
কমে গেছে।
Focus Sessions:
Settings > System > Focus থেকে কাজের সময় বিক্ষেপ কমাতে Focus Session
চালু করা যাবে। এটি Pomodoro কৌশলের মতো কাজ করে।
উইন্ডোজ ১১ আপগ্রেড করার পর প্রয়োজনীয় কাস্টমাইজেশন টিপস
উইন্ডোজ ১১ আপগ্রেড করার পর নিজের পছন্দমত কাস্টমাইজ করে নিলে ব্যবহার আরো
সুবিধাজনক হবে।এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা অনেকে উপেক্ষা করেন।
থিম ও ওয়ালপেপার পরিবর্তন: Setting > Personalization থেকে থিম,
ওয়ালপেপার, কালার, ফন্ট ইত্যাদি পরিবর্তন করা যাবে।
রাইট ক্লিক মেনু পুনরুদ্ধার: উইন্ডোজ ১১ এর রাইট ক্লিক মেনু সরলীকৃত
হয়েছে। পুরনো মেনু দেখতে "show more options" এ ক্লিক করতে হয়।
রেজিস্ট্রি পরিবর্তন করে পুরনো মেনু স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়।
প্রাইভেসি সেটিং ঠিক করুন: Settings > Privacy and Security এ
গিয়ে কোন অ্যাপকে কি অনুমতি দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করুন। Location , Camera,
Microphone—এগুলো প্রয়োজনমতো সীমাবদ্ধ রাখুন।
পাওয়ার প্লান অপটিমাইজ করুন: ল্যাপটপের জন্য Settings > System
> Power এ গিয়ে "Balanced" বা "Power Saver" রাখুন।
ডেস্কটপের জন্য "High Performance" রাখলে পারফরম্যান্স ভালো পাবেন।
Notification পরিচালনা: Settings > System > Notification থেকে কোন
অ্যাপের নোটিফিকেশন চাই আর কোনটা চাই না সেটা ঠিক করুন।
File Explorer কাস্টমাইজেশন: File Explorer খুলে View মেনু থেকে ফাইল
দেখানোর পদ্ধতি বদলানো যাবে। "Show hidden items" চালু রাখলে লুকানো ফাইলগুলো
দেখা যাবে।
উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে এই আর্টিকেল যা যা আলোচনা করা
হয়েছে,সেটা মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি নিশ্চিতভাবে নিজেই এই কাজটি করতে পারবেন।
প্রথমবার করতে গিয়ে একটু ভয় লাগাটা স্বাভাবিক কিন্তু ধাপগুলো একটু একটু করে
অনুসরণ করলে দেখবেন এটা আসলে অতটাও কঠিন নয় যতটা মনে হয়।
সারসংক্ষেপ করলে বলা যায়, আগে নিশ্চিত হন কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১ চালাতে পারবেন
কিনা। তারপর সব গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ নিন, বুটেবল পেনড্রাইভ তৈরি করুন,
BIOS সেটিং ঠিক করুন এবং ধাপে ধাপে ইনস্টল করুন। ইনস্টলের পরে ড্রাইভার
আপডেট এবং উইন্ডোজ আপডেট করতে ভুলবেন না।
যদি ইনস্টলেশনের সময় কোন সমস্যায় পড়েন তাহলে মোটেও ঘাবড়াবেন না, এই
আর্টিকেলের সমস্যা ও সমাধান অংশ থেকে সাহায্য নিয়ে অথবা মাইক্রোসফট এর অফিসিয়াল সাপোর্ট পেজ দেখুন। মনে রাখবেন সঠিকভাবে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি
অনুসরণ করলে আপনার কম্পিউটার অনেক বেশি নিরাপদ, দ্রুত এবং আধুনিক হয়ে উঠবে। আশা
করি এই গাইডটি আপনার কাজে এসেছে।কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন আমি সাহায্য করার
চেষ্টা করব।
ইনফোব্লেন্ড বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url